ইয়েমেন সংকট: ইতিহাস, রাজনীতি ও ভূ-রাজনীতি
ভূমিকা মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক মানচিত্রে ইয়েমেন আজ এক দীর্ঘমেয়াদী অশান্তি ও রক্তক্ষয়ী সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দু। উত্তর ইয়েমেনের পাহাড়ি অঞ্চল সায়াদা থেকে উদ্ভূত হুতি আন্দোলন বা 'আনসারুল্লাহ' কীভাবে ইয়েমেনের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করল এবং কেন তারা দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে একের পর এক যুদ্ধে লিপ্ত রয়েছে—তা বিশ্ব রাজনীতির অন্যতম জটিল প্রশ্ন। হুতিদের এই ধারাবাহিক যুদ্ধের পেছনে রয়েছে ধর্মীয় পরিচয় রক্ষা, অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অবহেলা, আঞ্চলিক পরাশক্তিগুলোর দ্বন্দ্ব এবং সাম্প্রতিক বৈশ্বিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট।
হুতিদের যুদ্ধের প্রধান কারণসমূহ
ধর্মীয় পরিচয় ও জাইদি স্বকীয়তা রক্ষা: ইয়েমেনের উত্তর অংশে শতাব্দী ধরে বসবাসকারী জাইদি শিয়া সম্প্রদায় ইয়েমেনের মোট জনসংখ্যার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ। ১৯৯০-এর দশকে ইয়েমেনের তত্কালীন সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় সৌদি আরব ভিত্তিক সালাফি বা ওহাবিপন্থী মতবাদের বিস্তার শুরু হয়। জাইদি শিয়াদের ধর্মীয় ও সামাজিক স্বকীয়তা বিলুপ্ত হওয়ার আশঙ্কায় হুসাইন বদরুদ্দিন আল-হুতির নেতৃত্বে একটি প্রতিরোধ গড়ে ওঠে, যা পরবর্তীতে সশস্ত্র আন্দোলনে রূপ নেয়।
রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অবহেলা: সুদীর্ঘ সময় ধরে প্রেসিডেন্ট আলি আবদুল্লাহ সালেহের শাসনকালে হুতিদের মূল কেন্দ্রবিন্দু 'সায়াদা' অঞ্চলকে অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষা, চিকিৎসা এবং অর্থনৈতিক সুযোগ থেকে বঞ্চিত রাখা হয়। রাষ্ট্রীয় বৈষম্যের বিরুদ্ধে জমে থাকা এই ক্ষোভই সাধারণ মানুষকে হুতিদের পতাকাতলে একত্রিত হতে উৎসাহিত করে।